Wednesday, 26 September 2012

নগরের যানবাহন!

 কিছুদিন আগে এই উদ্ধৃতিটা tweet করেছিলাম; পরে ফেসবুকেও তুলে দিয়েছিলাম; এখন মনে হল ঠেকের সাথে আলাদা ভাবে share করি। এত সত্যি কথা কিন্তু কি সহজভাবে বলা! ভারতবর্ষের জন্য তো যথাযথভাবে প্রযোজ্য:

"A developed country is not a place where the poor have cars. It's where the rich use public transportation." Mayor of Bogota (Columbia)

লন্ডনে টিউবরেল-এ শহরের মেয়রের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করার সুযোগ হয়েছে; NIITর বন্ধু সুদীপ্ত (ঠেকে বারকয়েক এসেছে) চিনিয়ে দিয়েছিল। ডাবলিনে দেখেছি শহরের মেয়র পারিষদের সভ্য-সভ্যারা রাস্তায় হেঁটে হেঁটে লোকজনের সাথে কথা বলছেন, practical problems কি কি হচ্ছে জানতে এবং সাথে ঠাট্টা-ইয়ারকিও চলছে। মিউনিখ থেকে ফ্রাংকফুটের overnight ট্রেনযাত্রাকালে দেখেছি কোন এক উচ্চপদস্থ রেল-আধিকারিক ও তার সহকর্মীরা আমারই পাশে বসে কফি ও সিগারেট সহযোগে আলোচনা করছেন, সংগে ট্রেণের Chief Conductor!

উন্নত নয়, উন্নয়নশীল দেশ হয়ে থেকে যাওয়াটাই বোধহয় আমাদের ভবিতব্য!

Sunday, 19 August 2012

ঠেলায় প'ড়ে কবিতা লেখা!

তোরা কেউ জানিস কি না জানি না, 'নিখিল ভারত বংগীয় সাহিত্য সভা' (নিভাবসাস) বলে একটা সংস্হা আছে, যারা বাংলা ভাষার চর্চার প্রসারে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, বিশেষ করে প্রবাসী বাংগালীদের মধ্যে। অনেক পুরনো এই সংস্হার সাথে কবিগুরুও যুক্ত ছিলেন শুনেছি; এখনকার রাষ্ট্রপতি বোধহয় চেয়ারম্যান এমেরিটাস। পুণাতে এই সংস্হার শাখা খোলার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন শ্রী সূর্য সেনগুপ্ত নামে একজন পুণাবাসী। নাট্যজগতে প্রচুর নামডাক আছে; আগে BNP Paribas (Banque Nationalie De Paris, কলকাতায় রাজ্যপালের বাসবভনের কাছে অফিস ছিল - আমার মনে আছে) নামে একটি ফরাসী ব্যাংকের উচ্চপদস্হ অাধিকারীক ছিলেন। এখন মাতৃভাষার প্রসারে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিমাসে একটা সাহিত্যসভা হয়, ই-ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়; সম্প্রতি একটি ব্লগ জাতীয় ক্রোড়পত্র বার করতে উঠেপ'ড়ে লেগেছেন। আমার পিছনে প'ড়েছিলেন যে প্রথম ক্রোড়পত্রে একটা কিছু লিখতেই হবে। সকাল-সন্ধা ফোন, টেক্সট! কি বিভ্রাট রে বাবা! এক রবিবার বিকেলে ব'সে কয়েক লাইন লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিমাশ্চর্যম! দেখি ছাপিয়েও দিয়েছেন। তোদের ছড়াটা পাঠালাম।

ব্লগল্প
------

ভোরবেলাতে চা-কাপ হাতে,   e-মেল খুলে দেখি,
মাতৃভাষায়  e-শাসানি, ভীষন কেলো এ কি!

নিভাবসাসের ক্রোড়পত্রে দিতেই হবে লিখে,
নইলে পরে জোর প্যাঁদানি, থাকবে না প্রাণ টিঁকে।

করব কি যে ভেবেই আকুল, বিদ্যাদেবীর কাছে,
কান্নাকাটি করতে বসি, উপায় কি আর আছে?

ভাষায় আমার নেই যে দখল, লিখব আমি blog?
আগের ক'বার ফেল করেছি, প্রচুর করেও slog!

ইংরেজী টা নড়বড়ে ভাই, বাংলাটাতেও কাঁচা,
Key-board ধরেই হাত-পা কাঁপে, করব কি যে চাচা!

শেষটা ভাবি, দূ: শালা ছাই, কপালে যাই থাক,
বলেই ফেলি, এক্কেবারেই রেখে No রাখ-ঢাক।

যতই আমায় ফেলুন চাপে, সূর্য্য সেনগুপ্ত,
এর বেশী আর পারব না কো, এবার হবেন চুপ তো?

-- নির্মাল্য সেনগুপ্ত

Tuesday, 1 May 2012

কোলাকথন (ও: ইন্ডিজের কোন বন্দর থেকে, ১৩ই এপ্রিল,২০১২)


সত্যজিত রায়ের জলসাঘর! মনে 'ড়ৈ? জমিদারী লাটে উঠেছে, একটা রূপোর থালাও আর ঘরে বেঁচে নেই,তবু শেষ মোহরটা কাঁসার থালায় বুড়ো ঘোরার পিঠে চাপিয়ে ভেট পাঠাচ্ছেন গ্রামের উঠতি বিত্তবান ব্যবসায়ী বাড়ীর উত্সবে। ভাংগবে তবু মচকাবে না। আলো জ্বলবে, বাঈজি নাচবে, বেলফুলের মালা কব্জিতে জড়ানো থাকবে,থেকে থেকে সুরার পাত্রে একটু চুমুক, খানদানী গায়িকা, বিখ্যাত নর্তকী, শরীর ছুঁতে হবে কোন মানে নেই, অনুষ্ঠান করাটাই জরুরী। ওটাই শান! অন্তিম শ্বাস অবশ্য বড়ই বেদনাবিধুর। বুড়ো ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শেষ জমিদার বিশ্বম্ভর রায়ের মৃত্যু

অনেকদিনে আগে বাংলা বই দেখতাম। মাঠে তখন পর্দা টাংগিয়ে ঘোষণা করে ছবি দেখাত। তার আগে নরেন্দ্রপুরে এক এক শনিবার ছবি দেখাত। অমন ছবি আমি আর টিটো ছাড়া অনেকেই দেখেনি: কালীয়-দমন, গুরদাসের রামকৃষ্ণ, সিস্টার নিবেদিতা ইত্যাদি। ছুটিতে পাড়ায় আসলে কিছু মেঠো ছবির টানে দৌড়তাম।

একদিন রাতে .. ছবি শেষ হয়ে গেল। আমাদের পাড়ার টুলি কাউকে সাথে নিয়ে আসার পায়নি, জোর করে আমার সাথে ছবি দেখতে এসেছিল। ফেরার পথে শুনি গুণগুণ করে গান গাইছে .. ''যেতে দাও আমায় ডেকো না, কবে কি আমি বলেছি মনে রেখো না .. তুমি ভরে নিও বাঁশী সুর থেকে সুরে, আমি চলে যাব ওগো দূর থেকে দূরে তো জানতাম নতুন পল্লীর যিশুর সাথে ঘোরে! কি হল এই রাত দুপুরে? হঠাত ওর গলাটা এই আলো-আঁধারীর বাঁশঝাড়ের পাশে হাঁটতে হাঁটতে ভারী মিষ্টি লাগল। আর আমি হাঁটছি, কোন কথা নেই, আঁধার পুকুর পাড়, শুধু সুর ভাসছে কানে। আমার নামী, দামী স্কুল আছে কিন্তু গলায় সুর নেই; ওর দুটো জামাকাপড়ে সারা সপ্তাহ কাটে - দ্বাদশ মন্দিরকিন্তু গলায় দারুণ গান আছে। আমার ছুটি খুব শিগ্গিরই শেষ হয়ে যাবে। নরেন্দ্রপুরে ক্লাস টেন- pre-test আসবে। গানের মত আমিও চলে যাব - "ওগো দূর থেকে দূরে! সাথে নিয়ে যাব এই ছুটিতে ওই পথচলাটুকু, সারা জীবনের মত। আঁধারে মুখ তুলে চাইল .. আমি বোকার মত না বুঝে হঠাত লোক-দেখানো উচ্ছাসে হাততালি দিয়ে উঠলাম।

---- আবার কবে আসবি?
---- ক্লাস টেন শেষ হলে, একেবারে।
---- তুই খুব পড়াশোনায় ভাল, তাই না?
---- এই যা:! আমার শত্রূরাও অমন নিন্দে করে না।
---- আমার টেন হবে কি না জানি না।
---- কেন?
---- দাদা আছে, ভাই আছে, দিদি তো কলেজ বন্ধ করে দিল। মা আমাকেও সেলাই শিখতে বলেছে।
---- তুই গান গা টুলি। ঈস্, তোর মত গলায় সুর থাকলে "গীত গাতা চল" – হিরোর মত বাঁশী নিয়ে দুনিয়ায় পাড়ি জমিয়ে ফেলতাম!
---- ছেলেদের সব হয়, যা চায় তাই করতে পারে। আমরা একটু এক্কা-দোক্কা, কিত্-কিত্, তারপর একটু শাড়ী-টারী 'ড়ে স্কুল, একটু ঘোরাঘুরি, তারপর সব শেষ। মানে, আর জানি না!
---- যিশু কি করছে এখন টুলি? (রাম, রাম! ছি: ছি:! মুখ ফসকে প্রশ্নটা বেরিয়ে গেল)
---- কি আবার করবে? ওর বাবা ওকে মামার কাছে দিল্লী পাঠিয়ে দেবে এই রবিবার। ব্যস্ আর কোনদিন ফিরবে কি না কে জানে!
--- তুই এখানে কি করছিস? দেখা করবি না?
---- এত রাতে?
একটু হাসল! কাটা কাটা মুখে টুলির হাসিটা দারুণ সুন্দর লাগল। ছোটবেলায় মাথায় হিম 'ড়ত; সেদিন যেন বুকে হিম 'ড়ল।
---- আর আমার সংগে দেখা করার সময় বার করতে পারবে না। বাড়ী ভরা আত্মীয়-স্বজন। চলে যাবে বলে কান্না জুড়তে এয়েছে সব। যত ন্যাকামো!
আবার গেয়ে উঠল টুলি: “যেতে দাও আমায় ডেকো না”।

সেই রাতের 'রে টুলিকে আর দেখি নি।

স্মৃতির ভল্টে কোথাও এক রাতের পাঁচ মিনিটের টুলিও তোলা আছে !

অমিত