Message Body
তাঁর সব সময়ের সঙ্গী, যেটা দিয়ে মুখ ঢেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেন, সেই সবুজ গামছটা ছিল না। মুখটা তাই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। শরীরটা মুড়ে দেওয়া হয়েছিল লাল শালুতে। অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেড্ডাপল্লিতে, বিশাল মাঠে যে চিতা জ্বলে উঠল রবিবার বিকেলে, তাতেই ছাই হয়ে গেল লাল শালু ঢাকা শরীরটা।
শেষ হয়ে গেল মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির অধ্যায়। -Anandabajar
*********************************************************
ডান দিকের চোখের জায়গাটা খালি। নীচের চোয়ালের বেশির ভাগটাই উড়ে গিয়েছে। মাথার ডান দিকে আঘাতের চিহ্ন। শুধু সামনের দাঁতের উঁচু পাটি থেকেই চেনা যাচ্ছে। ভারভারার অভিযোগ, “গুলিতে তিনি মরেননি। বেয়নেটে খুঁচিয়ে মারা হয়েছে। ডান চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক হিটারের উপরে দেহ ফেলে অত্যাচার করা হয়েছে। তাই পা দু’টো কালো হয়ে গিয়েছে। বাঁ পায়ের তলার দিক কেটে বাদও দিতে হয়েছে।” -**********************************************************
পেড্ডাপল্লির বাড়িতে ভিড়ের মধ্যে এ দিনও দেখা গিয়েছে জগন্মোহন সিংহকে। কিষেণজি-র ছোটবেলার বন্ধু, অনুগামী। তেলেঙ্গানা ও মাওবাদী-আন্দোলনের সঙ্গী। সকাল থেকেই জনতাকে ফুল সরবরাহ করছিলেন। বিকেলে সেই জগনকেই দেখা গেল, একা-একা প্রিয় বন্ধুর চিতায় কেরোসিন ছিটিয়ে চলেছেন। কাছে যেতে চোখ মুছে বললেন, “জানেন, ও বলত, কমিউনিস্ট হওয়াটা বড় কথা নয়। কমিউনিস্ট জীবনচর্যাটাই বড় কথা। আর কমিউনিস্ট হিসেবে মৃত্যু আরও বড়।” গলা বুজে এল তাঁর।-Anandabajar
| ||
| Vebechhilam Du fota chokher jol felbo...jol niye gelo ei lekhata;;; Kishanji-der janya o toh ank pran beghore gelo |
তিন বার একেবারে সামনে থেকে দেখেছি। প্রতিবারই পরনে এক পোশাক। কিছু স্মৃতি আজ না চাইতেও ঘুরেফিরে আসছে মাথায়। ২০০৯-এর ১৮ জুনের আগে পর্যন্ত শুধুই নাম শুনেছি। ২০০৪ সাল থেকে জঙ্গলমহলে মাওবাদী সংগঠনের ভার ছিল তাঁরই কাঁধে। ঝাড়গ্রামে থেকে কাজ করার সুবাদে কিষেণজির নাম পুলিশমহলের কাছে বারবার শুনেছি। জানতাম ভাল নাম মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও। অন্ধ্রের লোক। মাওবাদীদের পলিটব্যুরো সদস্য। ২০০৭ সাল থেকে লালগড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার পিছনে তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত বলে পুলিশের দাবি। তার পর থেকে লালগড়ে যে অবরোধ-আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার রাশ ছিল তাঁরই হাতে। তখনও পর্যন্ত কিষেণজি বলতে আমার কাছে ভাসা ভাসা, টুকরো টুকরো এই সব তথ্য। আর তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা কিছু ‘মিথ’। তাঁকে নাকি চোখে দেখা যায় না! এই আছেন বেলপাহাড়ির জঙ্গলে, তো খানিক পরেই তাঁকে নাকি দেখা যায় লালগড়ের জঙ্গলঘেরা গ্রামে। দু’হাতে বন্দুক চালানোয় সমান দক্ষ। অক্লেশে হাঁটতে পারেন মাইলের পর মাইল জঙ্গল-পাহাড়ি পথ।-Anandabajar